ফিলিস্তিনি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দেয়া কোম্পানির বিক্রি বাড়ছে যুক্তরাজ্যে

ফিলিস্তিনি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে বিক্রি করছে জয়তুন নামের একটি ব্রিটিশ কোম্পানি।

ফিলিস্তিনি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে বিক্রি করছে জয়তুন নামের একটি ব্রিটিশ কোম্পানি। এসব পণ্য উৎপাদনের জন্য ফিলিস্তিনি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। জয়তুন জানিয়েছে, চলমান গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে কোম্পানিটির বিক্রি বাড়ছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালেই কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে আগের বছরেরর তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বিষয়টি নিয়ে জয়তুনের ভাষ্য হলো, এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি নির্যাতনের শিকার পশ্চিম তীর ও গাজার মানুষের প্রতি ব্রিটিশ নাগরিকদের সহানুভূতির বিষয়টি প্রকাশ পাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি পণ্য ক্রয়কে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে সাধারণ মানুষ।

জয়তুনের বিপণনকৃত পণ্য তালিকায় রয়েছে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, মেডজুল খেজুর, বাদাম ও জায়ান্ট কুসকুস। এসব পণ্য থেকে গত বছর ৩২ লাখ পাউন্ড বা ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ডলার আয় করেছে কোম্পানিটি।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, জয়তুন একটি ফেয়ার ট্রেড উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগের লক্ষ্য হলো উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য দেয়া ও তাদের জীবিকার উন্নতিতে সাহায্য করা। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ফিলিস্তিনি কৃষকদের পাশে থাকা।

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জয়তুন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মানাল রামাদান হোয়াইটের মতে, বিক্রি বৃদ্ধির অর্থ হলো মানুষ শুধু পণ্য কিনছে না। তারা ক্রয়ক্ষমতাকে সামাজিক ও নৈতিকভাবে কাজ লাগাতে চাইছে।

তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের তুলনায় গত বছর আমাদের বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। কারণ যুক্তরাজ্যের বাজার কোনো না কোনোভাবে আমাদের প্রতি সমর্থন দেখাতে চেয়েছে।’

৫০০ মিলিলিটার জলপাই তেল ১৫ পাউন্ডে বিক্রি করে জয়তুন, যা সাধারণ যেকোনো ব্র্যান্ডের তুলনায় কিছুটা বেশি। রামাদান হোয়াইট বলেন, ‘শুরু থেকেই জয়তুনের পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এটি ফিলিস্তিনি কৃষকদের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করতে অপরিহার্য। পণ্যগুলো সত্যিই অনেক ব্যয়বহুল, তাই মুনাফার সুযোগ খুব কম। এর মধ্যেও ২১ বছর ধরে আমরা কাজটি করে যাচ্ছি।’

কল্যাণমূলক এ ধরনের উদ্যোগের মান নির্ধারণ করে ফেয়ার ট্রেড ফাউন্ডেশন। যেখানে ন্যায্যমূল্যের পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম পান কৃষকরা। গত বছর যুক্তরাজ্যে শুধু ফেয়ার ট্রেড প্রিমিয়ামের অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।

অবশ্য এক বছর ধরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পণ্যে ফেয়ার ট্রেড লোগো বহন করতে পারছে না জয়তুন। রামাদান হোয়াইট বলেন, ‘আমরা প্রায় এক বছর ধরে ফিলিস্তিন থেকে ফেয়ার ট্রেড অর্গানিক সনদপ্রাপ্ত অলিভ অয়েল আনতে পারছি না। যাচাইকরণ সংস্থা হঠাৎ করে অঞ্চলটি ছেড়ে চলে গেছে এবং কাউকে দায়িত্বও দিয়ে যায়নি।’

ইসরায়েলি হামলার মাঝেও জয়তুন সরবরাহকারী পরিবর্তন করেনি। পশ্চিম তীরের একই উৎপাদকদের সঙ্গে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা আশা করছে, আগামী ফসলের সময় তাদের পণ্যের জন্য আবার ফেয়ার ট্রেড অনুমোদন পাবে।

রামাদান হোয়াইট বলেন, ‘ফিলিস্তিনের প্রতিটি এলাকায় জলপাই গাছ দেখতে পাবেন। অধিকাংশ পরিবারের কাছে কিছু না কিছু গাছ রয়েছে। সেটা হতে পারে ২০ বা হাজারখানেক। জলপাই গাছের সহিষ্ণু ক্ষমতা ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রতিকূল সময়ে সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্যের প্রতীক।’

ফেয়ার ট্রেড মান যাচাই ছাড়াও গাজায় যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহন কঠিন হয়ে উঠেছে। বাড়তি নিরাপত্তা ও তল্লাশি ব্যবস্থার কারণে ইসরায়েলি বন্দর হাইফার মাধ্যমে রফতানি এখন জটিলতাপূর্ণ।

ফেয়ার ট্রেড ফাউন্ডেশন সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা ও পশ্চিম তীরের মানুষের ভবিষ্যৎ সচেতনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশে ফাউন্ডেশন উচ্চকণ্ঠ থাকবে।

ফাউন্ডেশনের সিইও ইলিনর হ্যারিসন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি নিরাপদে বসবাস ও কাজ করার এবং নিজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার অধিকার প্রত্যেক মানুষের রয়েছে।’

আরও